ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যম। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আগেই এই দাবিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) রাতে জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি অপারেশন সেন্টার পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থার নিপীড়ন থেকে মুক্ত করা। তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তন ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। নেতানিয়াহু দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের নেওয়া পদক্ষেপে ইরানের শক্ত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, বিশ্বে ইসরায়েলের অবস্থানে ইতিমধ্যে ‘অভূতপূর্ব পরিবর্তন’ এসেছে।
প্রতিবেদনে সোমবারের ওই কর্মসূচিতে নেতানিয়াহুর একটি ছবিও প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল, যা তার নিহত হওয়ার গুজবকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এর আগে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ দাবি করে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই প্রতিবেদনে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। মূলত মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত স্কট রিটার নামের একটি এক্স পোস্টের বরাত দেওয়া হয়েছে।
ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন এবং সেখানে উপস্থিত ইতামার বেন-গিভর আহত হন। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্ট করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটার ব্যবহার করেন কি না—তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ফার্সি ভাষার প্রতিবেদনে হামলার কোনো সরাসরি প্রমাণ বা নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও তুলে ধরা হয়নি। বরং কয়েকটি পরিস্থিতিগত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের খবর, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার-এর কথিত সফর স্থগিত হওয়ার তথ্য। এছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সেই কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
Mytv Online